
ইমাম হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না-এমন অভিযোগ উঠেছে। দলটির নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কিছু গণমাধ্যমে পুরোনো পক্ষপাতের সংস্কৃতি পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে জামায়াতের কর্মসূচি, বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সব তথ্য সমানভাবে প্রকাশিত হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের পক্ষ থেকেও গণমাধ্যমে বক্তব্য ভুলভাবে বা খণ্ডিতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ করা হয়েছে।
‘আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপির দিকে পক্ষপাতের পরিবর্তন’
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাব ও মালিকানাগত স্বার্থের কারণে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর সেই প্রবণতা পুরোপুরি বদলে না গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ উঠছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও চলতি বছরের জুনে এক সেমিনারে দেশের গণমাধ্যমের মালিকানা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও করপোরেট স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা ব্যবসায়িক ও অবৈধ পুঁজি রক্ষার স্বার্থেও দেশে গণমাধ্যম গড়ে উঠছে।
‘সব সত্য প্রকাশ হয় না’-এমন অভিযোগ
জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, অনেক সময় সংবাদ প্রকাশ হলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয় না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়।
তবে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ একটি গুরুতর বিষয়। কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিককে প্রমাণ ছাড়া ‘ফ্যাসিস্ট’ বা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করার বদলে কোন সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, কোনটি বাদ পড়েছে এবং কীভাবে শিরোনাম বা প্রতিবেদন করা হয়েছে-এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে বেশি গ্রহণযোগ্য।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি জরুরি
গণমাধ্যমকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে জনগণের কাছে সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করতে হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার কথা বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড বজায় রাখা, অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা জরুরি। অন্যথায় একটি সরকারের সময় যে ধরনের পক্ষপাত বা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে, সরকার পরিবর্তনের পরও যদি একই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকে, তাহলে গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল-কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নয়; জনগণের জানার অধিকারই হওয়া উচিত সংবাদমাধ্যমের প্রধান বিবেচনা। কোনো রাজনৈতিক দলের সংবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা, খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হলে সেটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।