
ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিয়ে এক দিনের সফর শেষে নয়াদিল্লি ছেড়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার পর নিজের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে তিনি বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন।
২০২০ সালের গালওয়ান সীমান্ত সংঘর্ষের পর দীর্ঘ অচলাবস্থার মধ্যে এটিই ছিল চীনের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম ভারত সফর।
শনিবার ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান শি জিনপিং। সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।
তবে সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন না চীনা প্রেসিডেন্ট। সফরকালে নয়াদিল্লির অভিজাত তাজ প্যালেস হোটেলে অবস্থান করেন তিনি।
শি জিনপিংয়ের সফরকে কেন্দ্র করে হোটেল ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। হোটেলটিকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন ইউনিট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে হোটেলের কক্ষগুলোও আগেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
চলতি বছর ভারতের সভাপতিত্বে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনটি বৈশ্বিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে জোটের সদস্যদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্যও দেখা দেয়।
এর আগে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তবে নয়াদিল্লির মূল সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য কাটিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যৌথ ছবিতে অংশ নেন শি জিনপিং। পরে মূল অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ স্বার্থের জন্য সহায়ক নয়।
শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন।
বর্তমানে ১১ সদস্যের ব্রিকস জোট বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জনসংখ্যার একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। সম্মেলনে অপ্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকি, বাণিজ্য, বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে সুইফটের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে রোববার বিকেলে চীনের উদ্দেশে রওনা হন শি জিনপিং। আগামী বছর চীন ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তার সংক্ষিপ্ত ভারত সফরকে সামনে রেখে বেইজিংয়ের পরবর্তী ব্রিকস কার্যক্রম এবং ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।