
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরপর কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে তিন দফা ভূকম্পন অনুভূত হয়। এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার, ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে। পরে ভোরেও ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা ১২ মিনিটের দিকে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এর কম্পন কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হয়।
এর মাত্র এক মিনিট পর, অর্থাৎ রাত ১২টা ১৩ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী ভারতের মিজোরামের লুংলেই এলাকায় আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫। এই ভূমিকম্পের কম্পন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে।
এরপর রাত ১টা ২৭ মিনিটের দিকে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা সংলগ্ন এলাকায় ৩ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। এর মৃদু কম্পন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (এনসিএস) তথ্যেও ত্রিপুরার ডালাই এলাকায় ৩ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর এসব ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব কম্পনে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের বাইরে হলেও সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় এর কম্পন দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম্পনের অনুভূতি বেশি ছিল বলে জানা গেছে।