
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভাগ গঠনের মূল উদ্দেশ্য শুধু উন্নত বা অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধ অঞ্চলে প্রশাসনিক সুবিধা আরও বাড়ানো নয়। বরং যেসব অঞ্চল উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবার দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে, সেসব এলাকায় রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোই হওয়া উচিত বিভাগ গঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এই বাস্তবতায় নোয়াখালীকে বিভাগ করার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে-বিভাগীয় কাঠামো কি ইতোমধ্যে উন্নত অঞ্চলের জন্য বেশি প্রয়োজন, নাকি অনুন্নত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য?
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া, সরকারি সেবা সহজলভ্য করা এবং পিছিয়ে থাকা অঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি নতুন বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নোয়াখালীসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, প্রশাসনিক সেবার বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে স্থানীয় জনগণকে বিভিন্ন সরকারি কাজে দূরের বিভাগীয় শহরের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে নতুন বিভাগ গঠনের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
উন্নয়ন বণ্টনে প্রয়োজন অগ্রাধিকার: বিভাগ গঠনের ক্ষেত্রে শুধু জনসংখ্যা, আয় বা বর্তমান অবকাঠামোর পরিমাণ বিবেচনা না করে কোন অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক সহায়তার প্রয়োজন বেশি—সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কারণ, “যার আছে তাকে আরও দেওয়া” নয়; যেখানে প্রয়োজন বেশি, সেখানে রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি বাড়ানোই হওয়া উচিত প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মূল দর্শন।
তাই নোয়াখালী বিভাগ গঠনের প্রশ্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-এটি শুধু একটি নতুন প্রশাসনিক সীমানা তৈরি করবে, নাকি পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সেবা ও উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।