গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি আবদুস শহিদ
Reporter Name
Update Time :
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
১২৩
Time View
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি আবদুস শহিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আবদুস শহিদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, আবদুস শহিদ ছিলেন গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে একজন আপসহীন ও সাহসী কণ্ঠস্বর। অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের রুটি-রুজির প্রশ্নেও তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভার শুরুতে প্রয়াত সাংবাদিক আবদুস শহিদ ও বর্ষীয়ান ফটোসাংবাদিক খালেদ হায়দারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বিএফইউজের সহসভাপতি একেএম মহসিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বাকের হোসাইন, শহীদুল ইসলাম, দিদারুল আলম, সদরুল হাসান, বেলায়েত হোসেন, নিজাম উদ্দিন দরবেশ, আবদুল্লাহ মজুমদার, ফখরুল ইসলামসহ সাংবাদিক নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আবদুস শহিদ ছিলেন একজন ভালো মানুষ, দক্ষ সাংবাদিক ও দায়িত্বশীল নেতা। যেকোনো সংকট ও সমস্যার সুন্দর সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতা তার ছিল। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ ও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত এখনও অনুসরণীয়।
তিনি বলেন, অন্যায়, অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আবদুস শহিদ ছিলেন সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। সারাজীবন তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। দেশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও তিনি কখনো আপস করেননি।
কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, গণমাধ্যমে বিদেশি শব্দ ও পরিভাষার অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়েও আবদুস শহিদ সচেতন ছিলেন। তরুণ সাংবাদিকদের তাঁর আদর্শ, সততা ও সাহসিকতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা করা উচিত।
ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বাকের হোসাইন বলেন, দলীয় রাজনীতির প্রভাবে সাংবাদিক সমাজ আজ বিভিন্নভাবে বিভক্ত। এর ফলে আবদুস শহিদের মতো সাংবাদিক নেতাদের যে ভূমিকা ছিল, তার ধারাবাহিকতা অনেকাংশেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজের এই বিভাজন গণমাধ্যমের মান এবং সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিএফইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, আবদুস শহিদ সত্য কথা বলতে কখনো ভয় পাননি। সত্য প্রকাশের কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে, চাকরিচ্যুতও হতে হয়েছে; কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি নীতির সঙ্গে আপস করেননি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
তিনি বলেন, আবদুস শহিদ শুধু নিজের পরিবার ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা চিন্তা করেননি। সাধারণ মানুষের কল্যাণ এবং সাংবাদিক সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি কাজ করেছেন। সততা, সাহসিকতা ও আপসহীনতার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
স্মরণসভায় বক্তারা আরও বলেন, আবদুস শহিদ ছিলেন দায়িত্বশীল ও কর্মনিষ্ঠ সাংবাদিক। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন।
দিদারুল আলম বলেন, আবদুস শহিদ ছিলেন একজন সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী, সৎ ও সাহসী সাংবাদিক। তিনি ছিলেন কর্মপাগল এবং দক্ষ সংগঠক। ফোরাম পরিচালনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার ছিল অসাধারণ সক্ষমতা। নিজের মতামত অকপটে তুলে ধরার সাহস তার মধ্যে ছিল।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আবদুস শহিদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে। তার সততা, সাহস, পেশাদারিত্ব এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার অনুসরণ করলেই সাংবাদিক সমাজ আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারবে।