
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সরব থাকেন তিনি। এবার রংপুর অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন নাবিলা। সেখানে সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে মানসম্মত মাতৃ ও নবজাতক সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ে ও কিশোরী গর্ভধারণ প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে নাবিলা রংপুর বিভাগের ‘জননী’ প্রকল্পের আওতায় চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে মা ও নবজাতকের সেবার মান সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।
এ সময় গর্ভকালীন ও প্রসবপরবর্তী সেবা নিতে আসা নারী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন নাবিলা। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কাজ করা কিশোরী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি।
গণমাধ্যমকর্মীদের নাবিলা বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে সাধারণ মানুষ যেন উন্নত সেবা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যন্ত চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগী স্থানান্তরের (রেফারেল) কার্যকর ব্যবস্থা থাকার কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, সঠিক জায়গায় নিয়োগ এবং কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসাসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বহুলাংশে বেড়ে যাবে।’
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘একটু বাড়তি মনোযোগ আর বিনিয়োগ পেলে রংপুর অঞ্চলের প্রতিটি মা ও নবজাতক নিরাপদে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। সরকারের পাশাপাশি ‘জননী’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগগুলো এ লক্ষ্যেই চমৎকার কাজ করে যাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে কোরীয় সংস্থা ‘কোইকা’র অর্থায়নে এবং ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর কারিগরি সহায়তায় ‘জননী’ প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। আরডিআরএস বাংলাদেশের পরিচালনায় প্রকল্পটি রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার ৪০টি ইউনিয়নে নিরাপদ প্রসব, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সেভ দ্য চিলড্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তা ডা. গোলাম ফখরুদ্দীন ফাহিম, ডা. উজ্জ্বল কুমার রায়, মোহাম্মদ ফরাজদুক ভূঞা ও আশফাক জামানসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।