এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার সুযোগ জামায়াতের ৯ দফা দাবি
Reporter Name
Update Time :
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৭৪
Time View
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার সুযোগ জামায়াতের ৯ দফা দাবি
বিশেষ সংবাদদাতা: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবির মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল এসব দাবি তুলে ধরে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি জানান, নয় দফা দাবি লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের বৈঠক ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ইজ্জতুল্লাহ, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাচন কমিটির সদস্য আব্দুর রব, নির্বাচন কমিটির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এমপি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য ইয়াসিন আরাফাত।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার সুযোগ চায় জামায়াত
জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিপুলসংখ্যক এমপিওভুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন।
তার দাবি, সংসদ নির্বাচনে একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রার্থী হতে পারলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা বৈষম্যমূলক। এ ধরনের বিধান নাগরিকদের সমতা ও বৈষম্যহীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আগের সুপারিশ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের প্রার্থী না করার দাবি
কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলে ওই দলের পদধারীদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে জামায়াত।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য, নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিলে সেটিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তাই এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সুস্পষ্ট বিধান রাখার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, শামসুল আলমের অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কমিশনের কাছে তাদের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। জবাবে কমিশন জানিয়েছে, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশন নয়। তবে বিষয়টি সরকারের কাছে অবহিত করার কথা জানিয়েছে কমিশন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগে আপত্তি
বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে রাজনৈতিক পরিচয়সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত।
দলটির অভিযোগ, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি সরকারি অর্থ, উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী মাঠে সুবিধা নিতে পারেন। এ কারণে বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন ব্যক্তিদের আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।
জামায়াতের প্রস্তাব, তফসিল ঘোষণার আগে প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তত ওই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।
মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণে বিধিনিষেধের দাবি
স্থানীয় নির্বাচনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের বিষয়েও স্পষ্ট বিধান রাখার দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনী মাঠে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আচরণবিধিতে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নতুন আচরণবিধিতে বিবেচনা করছে বলেও তাদের জানিয়েছে।
কিছু দাবি বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় এক মাস আগে একই ধরনের কিছু দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। এবার মূলত সেসব দাবির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি জানতে আবারও কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশন তাদের জানিয়েছে—উত্থাপিত কিছু বিষয় ইতোমধ্যে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি বিষয়ে কাজ চলছে। তবে কিছু দাবি বাস্তবায়নের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের বাইরে বলেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এখনই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নয়
জামায়াতের দাবিগুলো পূরণ না হলে স্থানীয় নির্বাচন বর্জন করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এখনই নির্বাচন বর্জনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, জামায়াত এখনো নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাশীল এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলোর সমাধান প্রত্যাশা করছে। তবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবের কারণে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ বহাল থাকলে জামায়াতের অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নে গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা তাদের প্রতিবাদ ও আপত্তি অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে জনমত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।