কলকাতায় দুই দিনে ২২১ হোটেল বন্ধ, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা
Reporter Name
Update Time :
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
১৪৪
Time View
কলকাতায় দুই দিনে ২২১ হোটেল বন্ধ, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থানে গেছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই মধ্যে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন সড়কে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী-স্বজনরা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় অনেক পর্যটককে। কেউ নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রশাসনের অভিযানে মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের ২২১টি হোটেল এবং ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমতি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম এবং জরুরি বহির্গমন সিঁড়ির মতো মৌলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিউমার্কেট থানার পুলিশ জানিয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই ওই এলাকার হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে রাজ্য সরকার কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টিরও বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।
এদিকে হোটেল বন্ধের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিউমার্কেট এলাকায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছেন।
হঠাৎ করে একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি পর্যটককে বিকল্প আবাসনের সন্ধানে ছুটতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কলকাতা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কলকাতার পর্যটননির্ভর ব্যবসার ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। নিউমার্কেটকে ঘিরে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল এসব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা হোটেল বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরিবহনসংশ্লিষ্টরাও বলছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে কলকাতাগামী বাসগুলোতে যাত্রী থাকলেও পর্যটকদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক পর্যটককে নিউমার্কেটের বাইরে অপেক্ষাকৃত দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। সেখানে আবাসন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হোটেল মালিকদের ব্যবসার বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি পূরণ না করা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করলেও হোটেল মালিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ থাকলে বাংলাদেশি পর্যটকসহ অন্যান্য পর্যটকদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নিউমার্কেটকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।